একগুচ্ছ কবিতা দিয়ে এবারের নিবেদন জনপ্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর কথামৃত 

একগুচ্ছ কবিতা দিয়ে এবারের নিবেদন জনপ্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর কথামৃত

বিদ্যুৎ ভৌমিক, ভারত থেকেঃঃ

আমার কথাঃ~
                                       ************
     আসলে এই কবিতা শব্দটা কখন কিভাবে মাথায় ঢুকেছিল ,
     সেটা ঠিক মনে নেই । এই পাগলামীটার ভেতর আমার মত
     অনেকেই আদ্যোপান্ত ঢুবে আছেন ! তাই কবিতার ব্যাপারে
     কোনোরকম আজেবাজে কথা শুনতে বা বলতে আমি চাই
     না । ইদানিং আমার নামটাম হয়েছে , প্রায় প্রতিদিনই আমাকে
     বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয় । স্পষ্ট কথা বলি, এই জন্য
     কাগজে আমাকে নিয়ে হাজার মুখোরোচক লেখা প্রকাশিত
     হয়-টয় ! এ-তে আমার কিছু যায় আসে না , আমি তো জানি
     আমি আমার কাজটার মধ্যে কতটা সময় দিচ্ছি । যে-বা যারা
      আমার সম্পর্কে লিখেছেন , তারা বিদ্যুৎ ভৌমিকের উপকার
      অন্যদিকে করছেন । তাদের প্রতি আমার সব-সময়ের জন্য
      পাহাড় প্রতিম অভিনন্দন রইলো ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।
      যাই হোক , সবাই ভালো থাকবেন এবং সুন্দর থাকবেন এই
      প্রার্থনা করছি মঙ্গলময়ের কাছে — বিদ্যুৎ ভৌমিক ¤¤
      ¤ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের একগুচ্ছ কবিতা ¤
              ****************************
¤¤ ~নষ্ট শরীর~ ¤¤

এক ফোঁটা
বৃষ্টি পাতে আকাশ শূন্য হবে  ; ভাবলে কী করে  ?
প্রেম প্রহরে নষ্ট হয়ে-হয়ে ঘুম বিছানায় জ্যোৎস্না এনে ধরো—
বুকের ভেতর স্বপ্ন খনি থেকে হাজার হাজার সুখ আনবো
কিনে !
এইবেলা আমিও কিন্তু নগ্ন হব , নতুন নতুন
আবেগ নিয়ে গড়বো বসে হাজার নারী ; প্রেম প্রতিমার আগুন
টুকু নষ্ট দেহে পুড়িয়ে দেবো  !
এই হাত থেকে রেহাই পেতে তুমিও তো বিপরীতে হাঁটছো  !!

                  ~মন  বিক্রি~

শেষে এসে একবারেই ভুলে গেছি
আমিও-তো কথা বিক্রি করতে এসেছি পদ্যপাড়ায়  !
ঘরের মধ্যে নির্ঘুম রাত, কবিতার পৃথিবী জুড়ে ভাসমান আমি—
অথচ এই ঘরে আটকে আছে মন খারাপের কিছু আসবাব  !
চেনা রাস্তার পাশে অচেনা এক জন  ; সে-ও বিক্রি করতে
কথা ফুল আর কিছু কিছু আরাম ও সুখ
তবুও অন্যের সাথে পথ চলে গেছে আঁকাবাঁকা ঢঙে *****
সেই কারণেই আমি আমার নিজের ভেতর থেকে বেরিয়ে
আসতে পারছি না  !
অথচ পাথরের ঢাকনা খুলে সূর্যদ্বয় দেখি একাএকা  !!

~ধ্রুম্রনীল এবং ঈশ্বর~
বেশ বুঝতে পারছি ; এখানে ঈশ্বর লুকিয়ে আছেন
মন চাপা বেমালুম ভুলে
হৃদয় নিয়েছে ডেকে, — এটাও ঠিক অদেখা এক বিভ্রম  !
শব্দের ভিতর শীতল স্রোত নেমে এলে কবিতার কাছে আমি
অচেনা হয়ে যাই ****
বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে
আকাশ পাখিদের রাত পর্যন্ত উড়ে চলা নির্ঘুম অহর্নিশ —
শেষ পর্যন্ত এই পাতাটি তোমার জন্য তোলা থাক, যদি না তুমি
আমার কাছে হার মানতে নারাজ থাকো  !!
~নবনীতা এবং উনিশ বছর~

নবনীতা বললো ; এতদিন তোমার সাথে মিথ্যে-মিথ্যে খেলা
করেছি  ! প্রেমের প্রলোভন এবং প্রতারণা দুঃখ প্রসবের জ্বালা
ধরায়  ! দুহাতে বৃষ্টির দাগ নিয়ে শ্রাবণ সন্ধ্যায় তার কাছে ঘুরে
আসা এমনই নিয়মে ****
সেই থেকে উনিশ-টা বছর , নিঃসঙ্গ পথিক হয়ে ঘোরা—
সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নিজের কবর খুঁড়ে দেখে
নেওয়া ; আমি বেঁচে আছি — তো — ?
মন নষ্ট হয়ে গেছে কবে , ভ্রান্ত ভাস্কর্যের ভেতর এক-একটা
মৃত্যুর চিহ্ন ; চুম্বন এবং দুঃস্বপ্ন পৃথক পৃথক নতুন ছবি যেন,
তবুও আমি প্রহর গুনে চলি নিশাচর-নির্ঘুম হয়ে  !
নবনীতা কী আসবে  !!

~হৃদয়তান্ত্রিক কবিতা~

এই আলোর বন্যায় ভাসমান আমি
যদি তুমি একবার আসো এই পথে ; আমি কী বাসবো ভালো
চিহ্নহীন সময় প্লাবন  ?
কথা মুখ খুলতে গিয়ে দেখা হবে নতুন অক্ষর ****
সাতশো বছর ধরে এই আমি অতলে ভাসছি , — ভেতরের যত
কথা বলতে পারিনি একবারও ;
মন ভ্রমণের পথ ধরে হেঁটে হেঁটে হেঁটে ভা-লো-বা-সা ফুরিয়ে
গেছে কবে , সেটাতো মেলাই-নি একবারও  !
হাত থেকে ফসকে গেছে পৃথিবীর সমস্ত প্রেম ;
কবিতাকে উপজীব্য করে আমি যেন অন্য চেহারা নিয়ে বাঁচি  ! !

~কাক  ও  কবিতা~
এক পাগল কাক প্রতিদিন শীতের রোদ্দুরে বাংলা আকাদেমি
চত্বরে তারস্বরে কবিতা বলে চলে —
তাই দেখে দৈনন্দিন ছড়াকাটা কিছু আঁতেল শালিক
পোশাকী ভব্যতায় ওই পাগল কাকের দুর্বার কবিত্ব নিয়ে
ইতিউতি পরস্পর মুখ চেপে হাসে*****
তারপর উড়ে যাবার ইচ্ছা হয় ওই পাগল কাকটার ,
অথচ ওর ডানা ভারী হয়ে ওঠে ~~~~
সহজলভ্যতা একটা নিশ্চল শামুকের মতো শুঁড়ের ডগায়
দুটো চোখের শান্ত চাহুনি নিয়ে লিখিয়ে নেয়
অসীম আকাশের ইতিহাস  !
পরক্ষণে পক্ষকালের সূর্য হারিয়ে ওই কাক অন্ধকারে আর একটা
কবিতা লেখার পৃথিবী তৈরি করার স্বপ্ন দেখে
মৃত চোখের স্থির বিজ্ঞাপনে  !!
  ~একটা  সমমনা  কবিতা~

দেখ পাথর প্রতীক্ষা ক’রে আছে ; কি শুনতে চাও ওর
স্মৃতিছুট কান্না  ? চোখের মলাট খুলে খুঁজে নাও অবিনশ্বর
গম্ভীরতা  !
দেখ নষ্ট চিন্তা রক্তে ভিজে কবিতাগুলো একে-একে
তিন টু-ক-রো হয়েছে ***
কেউ পূর্ণতায় ভাঙতে চাইছে
মাধ্যাকর্ষণের প্রোদ্ভিন্ন আদালত  !
দেখ শ্রাবন্তীর বুকের কাঠামো বিবর্ণ খয়েরী, —
পাথর চেয়ে আছে ঘর মিছিলে ***
সরল ঠোঁটের মধ্যে ঝুলে আছে মৃত্যুর আইন ~
পথে পথে, রাস্তায় রাস্তায় স্বপ্নের সম্ভাষণ ছুঁয়ে দেয় ভ্রূণের
অন্তর্গত পরিবর্তন ***
দেখ সত্তার সংগ্রামে প্রতিবাদী হয়েছে ঈশ্বর  !!
¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤

Comments

comments