ভোলায় ভুয়া এনজিওর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আটক-১

ভোলায় ভুয়া এনজিওর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আটক-১

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন, ভোলা প্রতিনিধিঃঃ ভোলার ‘অগ্রগতি’ নামে একটি এনজিও অফিস প্রতারণার অভিযোগে ঘেরাও করেছে স্থানীয় জনতা ও চাকরি প্রত্যাশীরা। রবিবার রাতে ভোলা শহরের উকিল পাড়ার পানির কল সংলগ্ন আমেনা ভিলায় ওই এনজিও অফিস রাত ১২টা পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখে স্থানীয় জনতা ও চাকরি প্রত্যাশীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই এনজিও’র আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো: মাসুদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পহেলা আগষ্ট মাস আগে অগ্রগতি নামে একটি এনজিও অফিস করার নাম করে উকিলপাড়া পানির কল এলাকার আমেনা ভিলায় একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় ওই এনজিওর ভুয়া আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো: মাসুদ আলম। কয়েকদিন পর ছোট ক’টি পোস্টার ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে সাটিয়ে দেয় এবং হ্যান্ডবিল আকারে বিলি করে। পোস্টারে লেখা রয়েছে ‘জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত গভ. রেজি নং-ঢ-০৭৪৬-৭৪৭, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির সনদপ্রাপ্ত।

এছাড়াও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি সংস্থার অগ্রগতি কর্তৃক প্রার্থীরদের নিকট থেকে স্ব-হন্তে লিখিত আবেদনপত্রসহ ৩০০ টাকা ফরম ফি বাবদ দরখাস্ত আহ্বান করা যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে ৯টি পদে ১৫ জন কর্মকর্তাকে আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর কয়দিন পর গত কয়েকদিন ধরে ইন্টারভিউর মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শতাধিক বেকার যুবকের কাছ থেকে ৩০/৪০ হাজার টাকা করে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবকরা কাজে যোগদানের জন্য তাকে তাগাদা নিয়ে সে তালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে এনজিও সম্পর্কে তারা খোঁজ-খবর নিতে শুরু করে। পরে জানতে পারে এটি ভুয়া এনজিও। এরপর রবিবার রাতে ওই এনজিওতে চাকরি প্রত্যাশী শতধিক যুবকরা অফিস ঘেরাও করে তাদের টাকা ফেরত চায় মাসুদ আলমের কাছে। এ সময় ওই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা নানা ধরনের তালবাহানা করলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ভোলা থানায় নিয়ে যায়।

প্রতারণার ফাদে পরা ফাতেমা বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তার বোন চাকরির জন্য আবেদন করে। তাকে ইন্টারভিউর জন্য ডাকে। তখন বলা হয় জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। টাকা জমা দিলে পরের দিন যোগদান। তখন তার বোন রাজি হন। তাদের চুক্তিপত্র ফরম পূরণ করে জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার ১০ দিন পার হলেও চাকরিতে যোগদান করতে পারেনি মাইনউদ্দিনের বোন। মো. রুবেল বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাকে ৪০ হাজার টাকা জামানত রাখতে বলে।

আমি রাজি হয়ে টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু যোগদান নিয়ে সে তালবাহানা করলে আমরা কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশীরা এনজিওর খোঁজ-খবর নেই। পরে জানতে পারি এটি ভুয়া। পরে গতকাল সন্ধ্যায় টাকা ফেরত চাই কিন্তু সে দিতে রাজি হয় না। এরপর স্থানীয়রা ঘটনা জানতে পেরে অফিস ঘেরাও করে। স্থানীয় এম শরীফ বলেন, টাকা নিয়ে এনজিও কর্মকর্তা মাসুদ আলম ও চাকরি প্রত্যাশী ৯/১০ জনের সঙ্গে সন্ধ্যা থেকে তর্কবির্তক ও চেচামেচি হলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে ঘটনা জানতে পেরে অফিস ঘেরাও করে।

এরপর ৪০/৫০ জন আরো চাকরি প্রত্যাশী ভোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসে ওই কর্মকর্তার কাছে জামানতের টাকা ফেরত চায়। সে দিতে অস্বীকার করলে পুলিশে খবর দেয় তারা। এব্যাপারে ভোলা থানার ওসি (তদন্ত) মনির হোসেন জানান, তারা খবর পেয়ে ‘অগ্রগতি’ নামে একটি এনজিও’র কর্মকর্তা মো: মাসুদ আলমকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।##

Comments

comments