দুই দেশের প্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর একটি শ্রেষ্ঠ দীর্ঘ কবিতা

দুই দেশের প্রিয় কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর একটি শ্রেষ্ঠ দীর্ঘ কবিতা

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত থেকেঃঃ

🔴 এই সময়কার জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের একটি
ব্যতিক্রমী দীর্ঘ কবিতা-কথা 🔴

কবি~ বিদ্যুৎ ভৌমিক~ প্রসঙ্গঃ—
********************************
কবিতাকে নিয়ে যথেচ্ছ ছিনিমিনি খেলার প্রয়াসই কবিতার
ক্ষেত্র থেকে পাঠক-কে অনেকখানি দূ-রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে,
এই উক্তি করেছেন এই সময়কার একজন জনপ্রিয় এবং
প্রতিষ্ঠিত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক ! তাঁর ভাষার সুরঝংকৃত ও
স্বকীয়তায় কবিতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় ! এই কবিতা লেখার
জন্য কবি বিদ্যুৎ পেয়েছেন বহু পুরষ্কার ও সন্মান ! কবিতার
মধ্যে গড়ে তুলেছেন নিজের জগত ! এক-কথায় এই কবিতা-
উপজীব্য করেই কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক আজ ভীষণ ভালো
জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে ! ভারতের
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম ও লেখার
কবিতা-ভূমি ! এই মহান কবিতা-প্রাণ মানুষটিকে আমার
অন্তরের অন্তস্থলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল ! আমি বিদেশ-
বসে তাঁর কবিতা দীর্ঘদিন ধরে পাঠ করে আসছি , তাঁর এই
সাফল্যকে সেলুট — ডঃ আদিত্য বসু সাংবাদিক USA
🔴 দীর্ঘ কবিতা 🔴

🔵 ~জলছোঁয়া রোগ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণ~ 🔵
==========================
📚 দীর্ঘ কবিতা~

~বিদ্যুৎ ভৌমিক~

পাশের চেয়ার-এ ধ্যানব্রক্ষ্মে আরক্ত
কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে
এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ
লাগে স্বর্গের অলিন্দে
প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে-শুনতে চেনা রাস্তা
দিয়ে ফিরে আসে ! এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম
অপ্রমেও উপমাহীন
তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানো কৌশল~
পাশের চেয়ার-এ অশরীর রেখেছে আমায়
এখানে স্মৃতি নষ্ট হ’তে-হ’তে দৃষ্টিও ভুলে যায়
কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির একেবারে কাছে চিররীণির মতো
চেহারায় নিঃশব্দ-এ দাঁড়িয়ে আছে ! অথচ ভালোবাসা মৃত্যু
সইতে পারে-না ; এক বেলাও !

যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল
আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে
চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে****
কথা ছিল , এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব , —
ভেসে যাব সোহাগ নদীতে
তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ দেবতার মত নিরাকার
এ-সববের মধ্যে বহুকালের রীণ দয়া চায় , ক্ষমা-ও চায়
ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —
পাশের চেয়ার-এ একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে
চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী
এই চেয়ারে থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় মনে-মনে শুনতে শুনতে
বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ !

কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি-কী তোমায়
মনে মনে শরীর চিনি, —
বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী
এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে
অপেক্ষায় থাকে, এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় ****
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে
মায়াময় শোক ;
এই চেয়া-রে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বি-ছা-না-য় *****
কোনো কিছুর জন্য ছাদের কার্নিসে ছিঁড়ে ফেলে দেই-নি
তোমার অজস্র অক্ষর মালা , — অথচ এরকম অনন্ত অসুখ
অবলা-নিরীহ ছিল সতেরো বছর !

সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর
সে-ও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম বিনীত চেহারা নিয়ে একা একা
কাটায় প্রহর !
এই জানলা দিয়ে নষ্ট চাঁদ এসে বিছানায় ঘুরে ঘুরে দেখেছে
আমাকে ! কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ
সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে~ধুয়ে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর
একেবারে মরে পচে গেছে !
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের
হৃদয়ে পদাঘাত করে
শেষ একবার সহজ সত্য প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি হব, ফুল-ফল
অনেক-অনেক কিছু !

সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্ঠহীন কান্নায় ভাসে জলছোঁয়া
রোগে ! এক-একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি , —
এই আধোজাগা সময়-এ সেই চেয়ার এককালের
স্পর্শে অতল প্রেমহীন , —
চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ , আজব দর্শক
অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে
এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ
কবিতা পংক্তি ধরে
এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকায় ছায়া —অর্ধেক
নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে এলোমেলো ! তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্বভুবন ,
ও-কি মৃত্যু ; না-কি অন্তরীক্ষে স্মৃতিছবি মেলে ধরে
অনাদিকালের প্রোজেক্টারে ! এই চেয়া-রে পৃথিবীর সব দুঃখ
একাই পেতে পেতে সিংহাসন হয়ে আছে , —
অথচ আঙুলের কড় গুণে মৃত্যু দিন ভাগ হয়ে গেছে !!
==================================

Comments

comments