কুড়িগ্রামের রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের

কুড়িগ্রামের রাজারহাট ইউপি চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃঃ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হকের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন ঐ ইউনিয়নের একজন মহিলা সদস্য।

রাজারহাট ইউনিয়নের ১, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোছা: জাহানারা বেগম জেলা প্রশাসক, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ মে রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ঐ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাকে বিভিন্ন ভাবে কাম চরিতার্থ করার জন্য কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন।

চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এবং তার স্বামীকে বিষয়টি অবহিত করায় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে তাকে বঞ্চিত করে আসছেন। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে ক্ষমতাহীন সদস্য করে রাখার হুমকীও প্রদান করেন। এমনকি গত ১৩ ও ১৪ আগষ্ট ইউনিয়ন পরিষদেই জনসম্মুখে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, লাঞ্চিত করাসহ বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তাকে এবং তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকীসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোরও হুমকী দেন। এছাড়াও এবার কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে তার বিতরণ করা ভিজিএফ’র কার্ডধারীদেরও চাউল দেয়া হয়নি মর্মে তিনি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

অভিযোগকারী সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা: জাহানারা বেগম বলেন, একমাত্র চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে বিভিন্ন সময় জনসম্মুখে লাঞ্চিত করাসহ ইউনিয়ন পরিষদে সরকারী বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করে আসছেন। বিষয়টি আমার স্বামী মাহবুবকে জানালে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের দু’জনকেই মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করেন। এ অবস্থায় আমি নিরুপায় হয়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও থানার ওসি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করছি।

্এ ব্যাপারে রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: এনামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ইউপি সদস্যদের সাথে নিয়ে আমি নিজেই ভিজিএফের কার্ড বিতরন করায় তিনি আমার সাথে খারাপ আচরন করেন। পরে তার স্বামী আমাকে হুমকী প্রদর্শন করায় আমি রাজারহাট থানায় জিডি করেছি। আমি কখনই কোন মহিলা সদস্যকে কুপ্রস্তাব দেইনি। রাজারহাট থানার অফিসার রাজারহাট থানা অফিসার ইন-চার্জ মোখলেসুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাজারহাট ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম ঐ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী সহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেন।

এর আগে বুধবার ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মহিলা সদস্যের স্বামী কর্তৃক তাকে হুমকী প্রদর্শনের বিষয়ে একটি জিডি করেছেন।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান মহিলা ইউপি সদস্যের একটি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জানান, এবিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।##

Comments

comments